জনপদ গ্রামীণ জনপদ শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ব্যাবসা-বানিজ্য-অর্থনীতি আমাদের প্রসঙ্গে

,

,

প্রচ্ছদ
Gaibandha.news image: 'শুভ জন্মদিন কুদ্দুস আলম'-'

শুভ জন্মদিন কুদ্দুস আলম

গাইবান্ধা ডট নিউজ | রবিবার ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

গাইবান্ধা ডট নিউজ:

আজ নন্দিত আলোকচিত্র শিল্পী ও কমিউনিটি নিউজ পোর্টাল গাইবান্ধা ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক কুদ্দুস আলমের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা শহরের মুন্সিপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন তিনি। বাবা মহির উদ্দিন ও মা জমিলা খাতুন।

কুদ্দুস আলম  নেশা ও পেশাগত দিক থেকে একজন আলোকচিত্র শিল্পী। শিল্পসম্মত ছবি তুলে এবং ফটো সাংবাদিকতা করে ইতোমধ্যেই তিনি সুনাম ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ফটোসাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের  মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তাই কুদ্দুস আলমকে ফটোসাংবাদিক হিসেবে মনে করা হলেও প্রকৃত পক্ষে তিনি একজন ঋদ্ধ আলোকচিত্র শিল্পী। গাইবান্ধায় তার পরিচয় ছবি পাগল কুদ্দুস আলম। নিজের পরিবারের পর তার প্রেম ভালবাসা সবকিছুই ক্যামেরা আর ছবিকে ঘিরে। মাথায় সবসময় ঘুুরপাক খায় আলোকচিত্রের নানা ব্যঞ্জনা। প্রায়ই স্নান খাওয়া ভুলে ছবির জন্য ছুটে যান দুর্গম চরাঞ্চলে কিংবা একটি ছবির ভালো শটের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেন। কুদ্দুস আলম সারাদিন ক্যামেরা কাঁধে ছোটাছুটি করেন। তাকে এখন আর পরিচয় দিতে হয় না। সবাই চেনেন তিনি একজন ফটো সাংবাদিক। প্রায়ই দেখা যায় এক অনুষ্ঠান থেকে তিনি আরেক অনুষ্ঠানে ছুটে যাচ্ছেন।

ফটোগ্রাফির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের মেধা ও মননের মাধ্যমে একজন আলোকচিত্র শিল্পীর পরিমন্ডল রচনা করেছেন এই শিল্পী। পেশাগত কারণে সভা, সমাবেশ, মিছিল বা কোনো অনুষ্ঠান কিংবা কোনো একটি সংবাদসংশ্লিষ্ট ছবি তোলেন কুদ্দুস আলম। কিন্তু এসব গতানুগতিক ছবি তুলে তৃপ্তিবোধ করেন না তিনি।
তার চোখ সারাক্ষণই খুঁজে বেড়ায় অন্যরকম, ভিন্ন রকম বা বিরল ও রিয়ালিস্টিক মিস্টিসিজম অফ স্টিল আর্ট। তার এই অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টির কারণেই তিনি আজ আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তার তোলা বহুমাত্রিক ছবি- বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং ‘অন্য রকমের’ হওয়ায় সেই ছবি মানুষকে মুগ্ধ করে, ভাবায় এবং তার ছবি দেখে অনেক সময় মানবিক মূল্যবোধের তাড়নায় উদ্বুদ্ধ হতে হয়।

কুদ্দুস আলম জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৪ সালের ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা শহরের মুন্সিপাড়ায়। তার বাবা মহির উদ্দিন ও মা জমিলা খাতুন। তার বাবা, মা আজ আর বেঁচে নেই। ৬ ভাইবোনের মধ্যে কুদ্দুস আলম তৃতীয়। তার মধ্যে ছোট ভাই শামীম রেজা ২০০৫ সালে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রী রিটা আলম। দুই পুত্র সন্তানের জনক-জননী তারা।

কুদ্দুস আলম ১৯৭৮ সালে ক্যামেরা হাতে তুলে নেন এবং শুরু করেন ছবি তোলার কাজ। সেই সময মূলত শখের বশেই ছবি তুলতেন। সেই শখ আজ তার পেশায় পরিণত হয়েছে। ফটো সাংবাদিক হিসেবে কুদ্দুস আলম কাজ শুরু করেন ২০০৩ সালে। তিনি ‘দৈনিক গাইবান্ধার মুখ’র নির্বাহী সম্পাদক। আলোক চিত্রশিল্পী হিসেবে তার অবদান অনেক। দৃক নিউজের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০০৭সালের ৪ সেপ্টেম্বর, দৃক গ্যালারীতে ‘চলমান বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের একটি ছবির শিরোনামে প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়। ছবিটি অনুষ্ঠানের পোস্টার, ব্যানার ও আমন্ত্রণপত্রসহ সকল প্রকাশনায় ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ২০০৮ সালের ৪ ও ৫ জুন দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে ‘বৈত’ শিরোনামে গাইবান্ধা অঞ্চলের দলবদ্ধ মাছ শিকার এবং ‘কারিগর’ শিরোনামে এ অঞ্চলের কুম্ভকারদের মাটির তৈজসপত্র নির্মাণের দু’টি ছবি সাড়া জাগিয়েছিল। সেগুলো গাইবান্ধার চিত্র সাংবাদিক কুদ্দুস আলমের। প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭০ জন খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী প্রায় ৪ হাজার ছবি জমা দেন। কিন্তু কুদ্দুস আলম ছিলেন তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম এবং অন্যতম।

তার কৃতিত্বের ঝুলিতে রয়েছে ২০০৮ সালের ২২ আগষ্ট স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক ও ডেইলী স্টার আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘সেলিব্রেটিং লাইফ’ এ অংশগ্রহণ ও পুরস্কার অর্জন, ২০০৯ সালে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার আয়োজনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ডাব্লিউএফপি ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০০৯’এ অংশগ্রহণ ও পুরস্কার অর্জন।

২০১০ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এই প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শতাধিক প্রতিযোগীর ১২৭টি ছবির মধ্যে তাঁর ১০টি বিষয়ভিত্তিক ছবি স্থান পায়। যা প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবির মধ্যে সর্বাধিক। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পেইনটেড চিল্ড্রেনের উদ্যোগে ‘মা ও শিশু’ শিরোনামে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারী থেকে ৫ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন কুদ্দুস। এই চিত্র প্রদর্শনীতে সারাদেশের দেড় হাজার আলোকচিত্র শিল্পী তাদের ছবি জমা দেয়। প্রদর্শনীর জন্য বাছাই করা ৩৮টি ছবির মধ্যে তার ২টি ছবি স্থান পায়। ‘মেজরিটি ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে একটি ছবি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ এর ২০১১ সালের ক্যালেন্ডারে স্থান পায়। দি ডেইলী স্টার ও স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক যৌথভাবে আয়োজিত সেলিব্রেটিং লাইফ শিরোনামে ফটোগ্রাফি, মিউজিক ও শর্টফিল্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় গোটা দেশ থেকে ফটো জার্নালিস্ট ও ফটোগ্রাফারদের ৪ হাজার ছবি জমা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৭০টি চুড়ান্ত ছবির মধ্যে এই শিল্পীর ২টি ছবি মনোনয়ন পায়। যা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে স্থান পায়। ইত্তেফাক-ক্যানন ফটোগ্রাফি কনটেস্টে দেশব্যাপী আলোকচিত্রী ও ফটো সাংবাদিকদের জমা দেয়া প্রায় ৩০ হাজার ছবির মধ্যে কুদ্দুস আলমের ছবি তৃতীয় স্থান লাভ করে। ছবিটি দৈনিক ইত্তেফাকের ২০১২ সালের ক্যালেন্ডারে মুদ্রিত হয়। বিপিএল দুরন্ত রাজশাহী দলের থিম ফটোগ্রাফি হিসেবেও শিল্পী কুদ্দুসের ২টি ছবি ব্যবহার করা হয়। ‘বাংলানিউজ-ওয়ালটন ফটো কনটেস্ট-২০১২’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার প্রদর্শনীতে তিনি অংশ নেন। ১ জুলাই ঢাকায় ধানমন্ডির দৃক গ্যালারীতে প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী আলোকচিত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। ৫ হাজার প্রতিযোগীর জমা পড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরির কয়েক হাজার আলোকচিত্রের মধ্যে কুদ্দুস আলমের পরিবেশ ক্যাটাগরির ছবিটি শীর্ষস্থান অধিকার করে। প্রদর্শনীতে বিজয়ীরাসহ ২৫ জন আলোকচিত্রীর ৪০টি চিত্র স্থান পেয়েছে। এরমধ্যে কুদ্দুস আলমের দুটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৪১৯ বঙ্গাব্দের ক্যালেন্ডারেও ছিল কুদ্দুসের একটি ছবি। সিটিসেল মোবাইল কোম্পানির ২০১৪ এর ক্যালেন্ডারে এবং ডায়েরিতে তার দুটি ছবির ব্যবহার হয়।

কুদ্দুস আলম ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ফটো এজেন্সী ‘দৃকনিউজ’ এর গাইবান্ধা প্রতিনিধি হিসেবে জানুয়ারি ২০০৭ থেকে কাজ করছেন। এর আগে জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘ফোকাস বাংলা’র নর্থ বেঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে ২০০৪ সালের জানুয়ারী থেকে কাজ করেন। রুরাল ভিজ্যুয়াল জার্নালিজম নেটওয়ার্কের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে ২০১১ সাল থেকে কাজ করছেন। তার একটি ভিডিও ফুটেজ দিয়ে ২০১৩ সালে  জার্মানীতে একটি টিভি চ্যানেল উদ্বোধন করা হয়। তিনি গাইবান্ধা প্রেসক্লাব এর কার্যনির্বাহী সদস্য। কুদ্দুস আলম ভবিষ্যতে যে গাইবান্ধার সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে একজন আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবেন- এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

 

কেআরআর/জিএআই



Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ছবি সংবাদ

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো ফিচার

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও প্রতিবেদন

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

সর্বশেষ খবর

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news image: 'হলি আর্টিজান হামলার রায় আজ, আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তা'-'

হলি আর্টিজান হামলার রায় আজ, আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তা

গাইবান্ধা ডট নিউজ | বুধবার ২৭ নভেম্বর ২০১৯

গাইবান্ধা ডট নিউজ:

আজ নন্দিত আলোকচিত্র শিল্পী ও কমিউনিটি নিউজ পোর্টাল গাইবান্ধা ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক কুদ্দুস আলমের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা শহরের মুন্সিপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন তিনি। বাবা মহির উদ্দিন ও মা জমিলা খাতুন।

কুদ্দুস আলম  নেশা ও পেশাগত দিক থেকে একজন আলোকচিত্র শিল্পী। শিল্পসম্মত ছবি তুলে এবং ফটো সাংবাদিকতা করে ইতোমধ্যেই তিনি সুনাম ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ফটোসাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের  মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তাই কুদ্দুস আলমকে ফটোসাংবাদিক হিসেবে মনে করা হলেও প্রকৃত পক্ষে তিনি একজন ঋদ্ধ আলোকচিত্র শিল্পী। গাইবান্ধায় তার পরিচয় ছবি পাগল কুদ্দুস আলম। নিজের পরিবারের পর তার প্রেম ভালবাসা সবকিছুই ক্যামেরা আর ছবিকে ঘিরে। মাথায় সবসময় ঘুুরপাক খায় আলোকচিত্রের নানা ব্যঞ্জনা। প্রায়ই স্নান খাওয়া ভুলে ছবির জন্য ছুটে যান দুর্গম চরাঞ্চলে কিংবা একটি ছবির ভালো শটের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেন। কুদ্দুস আলম সারাদিন ক্যামেরা কাঁধে ছোটাছুটি করেন। তাকে এখন আর পরিচয় দিতে হয় না। সবাই চেনেন তিনি একজন ফটো সাংবাদিক। প্রায়ই দেখা যায় এক অনুষ্ঠান থেকে তিনি আরেক অনুষ্ঠানে ছুটে যাচ্ছেন।

ফটোগ্রাফির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের মেধা ও মননের মাধ্যমে একজন আলোকচিত্র শিল্পীর পরিমন্ডল রচনা করেছেন এই শিল্পী। পেশাগত কারণে সভা, সমাবেশ, মিছিল বা কোনো অনুষ্ঠান কিংবা কোনো একটি সংবাদসংশ্লিষ্ট ছবি তোলেন কুদ্দুস আলম। কিন্তু এসব গতানুগতিক ছবি তুলে তৃপ্তিবোধ করেন না তিনি।
তার চোখ সারাক্ষণই খুঁজে বেড়ায় অন্যরকম, ভিন্ন রকম বা বিরল ও রিয়ালিস্টিক মিস্টিসিজম অফ স্টিল আর্ট। তার এই অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টির কারণেই তিনি আজ আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তার তোলা বহুমাত্রিক ছবি- বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং ‘অন্য রকমের’ হওয়ায় সেই ছবি মানুষকে মুগ্ধ করে, ভাবায় এবং তার ছবি দেখে অনেক সময় মানবিক মূল্যবোধের তাড়নায় উদ্বুদ্ধ হতে হয়।

কুদ্দুস আলম জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৪ সালের ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলা শহরের মুন্সিপাড়ায়। তার বাবা মহির উদ্দিন ও মা জমিলা খাতুন। তার বাবা, মা আজ আর বেঁচে নেই। ৬ ভাইবোনের মধ্যে কুদ্দুস আলম তৃতীয়। তার মধ্যে ছোট ভাই শামীম রেজা ২০০৫ সালে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রী রিটা আলম। দুই পুত্র সন্তানের জনক-জননী তারা।

কুদ্দুস আলম ১৯৭৮ সালে ক্যামেরা হাতে তুলে নেন এবং শুরু করেন ছবি তোলার কাজ। সেই সময মূলত শখের বশেই ছবি তুলতেন। সেই শখ আজ তার পেশায় পরিণত হয়েছে। ফটো সাংবাদিক হিসেবে কুদ্দুস আলম কাজ শুরু করেন ২০০৩ সালে। তিনি ‘দৈনিক গাইবান্ধার মুখ’র নির্বাহী সম্পাদক। আলোক চিত্রশিল্পী হিসেবে তার অবদান অনেক। দৃক নিউজের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০০৭সালের ৪ সেপ্টেম্বর, দৃক গ্যালারীতে ‘চলমান বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের একটি ছবির শিরোনামে প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়। ছবিটি অনুষ্ঠানের পোস্টার, ব্যানার ও আমন্ত্রণপত্রসহ সকল প্রকাশনায় ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ২০০৮ সালের ৪ ও ৫ জুন দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে ‘বৈত’ শিরোনামে গাইবান্ধা অঞ্চলের দলবদ্ধ মাছ শিকার এবং ‘কারিগর’ শিরোনামে এ অঞ্চলের কুম্ভকারদের মাটির তৈজসপত্র নির্মাণের দু’টি ছবি সাড়া জাগিয়েছিল। সেগুলো গাইবান্ধার চিত্র সাংবাদিক কুদ্দুস আলমের। প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭০ জন খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী প্রায় ৪ হাজার ছবি জমা দেন। কিন্তু কুদ্দুস আলম ছিলেন তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম এবং অন্যতম।

তার কৃতিত্বের ঝুলিতে রয়েছে ২০০৮ সালের ২২ আগষ্ট স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক ও ডেইলী স্টার আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘সেলিব্রেটিং লাইফ’ এ অংশগ্রহণ ও পুরস্কার অর্জন, ২০০৯ সালে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার আয়োজনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ডাব্লিউএফপি ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড-২০০৯’এ অংশগ্রহণ ও পুরস্কার অর্জন।

২০১০ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এই প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শতাধিক প্রতিযোগীর ১২৭টি ছবির মধ্যে তাঁর ১০টি বিষয়ভিত্তিক ছবি স্থান পায়। যা প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবির মধ্যে সর্বাধিক। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পেইনটেড চিল্ড্রেনের উদ্যোগে ‘মা ও শিশু’ শিরোনামে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারী থেকে ৫ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন কুদ্দুস। এই চিত্র প্রদর্শনীতে সারাদেশের দেড় হাজার আলোকচিত্র শিল্পী তাদের ছবি জমা দেয়। প্রদর্শনীর জন্য বাছাই করা ৩৮টি ছবির মধ্যে তার ২টি ছবি স্থান পায়। ‘মেজরিটি ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে একটি ছবি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ এর ২০১১ সালের ক্যালেন্ডারে স্থান পায়। দি ডেইলী স্টার ও স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক যৌথভাবে আয়োজিত সেলিব্রেটিং লাইফ শিরোনামে ফটোগ্রাফি, মিউজিক ও শর্টফিল্ম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় গোটা দেশ থেকে ফটো জার্নালিস্ট ও ফটোগ্রাফারদের ৪ হাজার ছবি জমা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৭০টি চুড়ান্ত ছবির মধ্যে এই শিল্পীর ২টি ছবি মনোনয়ন পায়। যা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে স্থান পায়। ইত্তেফাক-ক্যানন ফটোগ্রাফি কনটেস্টে দেশব্যাপী আলোকচিত্রী ও ফটো সাংবাদিকদের জমা দেয়া প্রায় ৩০ হাজার ছবির মধ্যে কুদ্দুস আলমের ছবি তৃতীয় স্থান লাভ করে। ছবিটি দৈনিক ইত্তেফাকের ২০১২ সালের ক্যালেন্ডারে মুদ্রিত হয়। বিপিএল দুরন্ত রাজশাহী দলের থিম ফটোগ্রাফি হিসেবেও শিল্পী কুদ্দুসের ২টি ছবি ব্যবহার করা হয়। ‘বাংলানিউজ-ওয়ালটন ফটো কনটেস্ট-২০১২’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার প্রদর্শনীতে তিনি অংশ নেন। ১ জুলাই ঢাকায় ধানমন্ডির দৃক গ্যালারীতে প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী আলোকচিত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। ৫ হাজার প্রতিযোগীর জমা পড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরির কয়েক হাজার আলোকচিত্রের মধ্যে কুদ্দুস আলমের পরিবেশ ক্যাটাগরির ছবিটি শীর্ষস্থান অধিকার করে। প্রদর্শনীতে বিজয়ীরাসহ ২৫ জন আলোকচিত্রীর ৪০টি চিত্র স্থান পেয়েছে। এরমধ্যে কুদ্দুস আলমের দুটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৪১৯ বঙ্গাব্দের ক্যালেন্ডারেও ছিল কুদ্দুসের একটি ছবি। সিটিসেল মোবাইল কোম্পানির ২০১৪ এর ক্যালেন্ডারে এবং ডায়েরিতে তার দুটি ছবির ব্যবহার হয়।

কুদ্দুস আলম ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ফটো এজেন্সী ‘দৃকনিউজ’ এর গাইবান্ধা প্রতিনিধি হিসেবে জানুয়ারি ২০০৭ থেকে কাজ করছেন। এর আগে জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘ফোকাস বাংলা’র নর্থ বেঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে ২০০৪ সালের জানুয়ারী থেকে কাজ করেন। রুরাল ভিজ্যুয়াল জার্নালিজম নেটওয়ার্কের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে ২০১১ সাল থেকে কাজ করছেন। তার একটি ভিডিও ফুটেজ দিয়ে ২০১৩ সালে  জার্মানীতে একটি টিভি চ্যানেল উদ্বোধন করা হয়। তিনি গাইবান্ধা প্রেসক্লাব এর কার্যনির্বাহী সদস্য। কুদ্দুস আলম ভবিষ্যতে যে গাইবান্ধার সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে একজন আলোকচিত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবেন- এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

 

কেআরআর/জিএআই



Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ছবি সংবাদ

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো ফিচার

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও রিপোর্ট

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

সর্বশেষ খবর

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

Gaibandha.news Ad. image

Gaibandha.news Ad. image

Gaibandha.news Ad. image


Gaibandha.news Ad. image

গল্প-প্রবন্ধ-নিবন্ধ

মতামত-বিশ্লেষণ

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

কৃষি-বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য-চিকিৎসা

সাজসজ্জা

রান্নাবান্না

ভ্রমণ-বিনোদন

চারু-কারুকলা

শিশুকিশোর

ইভেন্ট ফটো গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image

ইভেন্ট ভিডিও গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image

আর্কাইভ

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

Gaibandha.news Ad. image

ইভেন্ট বোর্ড

খোঁজখবর - চাকুরি বিঞ্জপ্তি

Gaibandha.news Ad. image

খোঁজখবর - টেন্ডার বিঞ্জপ্তি

Gaibandha.news Ad. image

খোঁজখবর - বেচাকেনা

জরীপ/ভোটাভুটি (হাঁ/না)

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Activities

© 2019 Gaibandha.News. All rights reserved. Inspired by w3schools.com

Crafted with by arccSoftTech & Powered with CSR by arccY2K.com a Subsidiary of BangladeshICT.com